Title: এক্সপেরিমেন্ট (গল্প)

Class: 0 Group: N/A
Subject: N/A Chapter: N/A
NAS এর ল্যাবে আজ উৎসবমুখর পরিবেশ। গতকাল তাদের একটি এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়েছে। আজ এই এক্সপেরিমেন্ট এর ফলাফল ল্যাব এর স্পনসর ও ডোনরদের দেখানো হবে। তবে এক্সপেরিমেন্ট সফল হওয়াতে গবেষকরা খুশি, নাকি আরো ফান্ড আসার উপলক্ষ তৈরি হওয়াতে সবাই খুশি তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। একটু পরেই কনফারেন্স শুরু হবে। তাই তাই হয়ত কনফারেন্স রুম থেকেই যা আওয়াজ শোনার শোনা যাচ্ছে। কনফারেন্স রুম এ জড়ো হয়েছে স্পনসর প্রতিষ্ঠান এর মালিক অথবা তাদের মুখপাত্ররা। প্রাইভেট ল্যাব হওয়ায় NAS কে ফান্ডের জন্য স্পনসরদের উপর ডিপেন্ড করতে হয়। তাই ল্যাবে কোন কিছু করা হলে সাথে সাথেই স্পনসরগুলোকে দেখাতে হয় আর এতে ওই প্রতিষ্ঠান এর কী লাভ হবে তা বুঝিয়ে দিতে হয়।

কনফারেন্স রুম এ সবার হাতে ফ্লায়ার বিতরণ করা হয়েছে। সবাই মনযোগ দিয়ে পড়ছে। কেউ মুচকি হাসি দিয়েছে, কেউ ভ্রুকুঞ্চিত করে পড়ছে। এর মধ্যে অস্ত্র ব্যাবসায়ীকে খুব খুশি দেখা যাচ্ছে। সে সাথে সাথে কনফারেন্স রুম এর বাইরে গিয়ে তার পি এস কে ফোন করল, "বিভিন্ন দেশে আমাদের সব ক্রেতা এর সাথে যোগাযোগ কর। বল তিন মাসের মধ্যে আমরা তাদের নতুন এক ধরনের অস্ত্র এর ডেমো দেখাব। আর তাদের এটাও বলে দেও যে, এর মাধ্যমে যুদ্ধের ইতিহাসে নতুন এক যুগ শুরু হবে।" ঠিক কী পরিমাণ টাকা এর মাধ্যমে কামাবে তার একটা গ্রাফও সে মনে মনে ঠিক করে ফেলল। তার কোম্পানির শেয়ার এর দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে তা সে কল্পনাও করতে পারছে না। ভেতরে ভেতরে সে অট্টহাসিতে ফেটে পরছে। মুখে মৃসু হাসি ঝুলিয়ে সে রুমে ফেরত গেল।

অস্ত্র ব্যাবসায়ী ঢোকার সাথে সাথেই শিউ মেডিকেল টেকনোলজি এর মুখপাত্র বের হয়ে গেল রুম থেকে। সে ফোন করল তার বসকে। "স্যার।... জ্বী হ্যাঁ।... আমি জিনিসটা সম্পর্কে পড়লাম স্যার।... আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা দিয়ে খুবই লাভজনক প্রোডাক্ট বানানো সম্ভব।...... একাধিক নয়, আপাতত আমার মনে হচ্ছে ভুমিকম্প দূর্গত এলাকায় এটা খুব কাজে লাগবে। ডিজ্যাস্টার প্রিপারেশন এর একটা ভালো টেকনলজি হবে এটা।...... জ্বী স্যার।... রেসকিউ কাজেও এটা ব্যাবহার করা সম্ভব।... রেডক্রস এটা কিনতে আগ্রহি হবে বলে আমার ধারনা।... জ্বী স্যার।... না এখনো ডেমো দেখায়নি।... জ্বী স্যার।... অবশ্যই স্যার।... জ্বী স্যার। ডেমো দেখার পরই আপনাকে জানাবো।"

অন্যদিকে একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল, "একটা টপ সিক্রেট ল্যাব এ বসে আছি :( । অতি শীঘ্রই পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করবে এমন এক প্রযুক্তির ডেমো দেখব। :D :D"

--

"এহেম।" স্পিকারে কেউ কাশি দিয়ে উঠল। সবাই সামনের দিকে তাকাল। "বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার নতুন মাইলফলক এর উন্মোচনের দিনে আপনাকে সবাইকে স্বাগতম। আপনারা জানেন এই বিষয় এ গবেষনা করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র তিনটি। NAS এই গবেষনায় শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল। এবং সবার প্রথম আমরাই হলো ম্যাটার তৈরিতে সফলতা পেলাম। এই বিষয় এ গবেষনার সুত্রপাত করেছিলেন বিজ্ঞানি রিচার্ড। টপসিক্রেট ডাটা ফাঁস করার দায়ে তিনি চাকরিচ্যুত তাই আজকে তিনি এখানে আসতে পারছেন না বলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি; ওনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এই প্রজেক্টে কাজ করা বিজ্ঞানি ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে NAS এর পক্ষ থেকে কংগ্রেচুলেশন জানানো হচ্ছে। বরাবরের মতই প্রজেক্টের সমস্ত স্বত্ত্ব NAS এর অধীনে থাকছে। যাই হোক, তরুন ইঞ্জিনিয়ার জ্যানস জোনাস এই প্রযুক্তির ডেমো দেখাবেন।"

--

"দেয়াল ভেদ করে এবং দেয়াল এর কোন ক্ষতি না করেই কোন অবজেক্ট চলে যাওয়া ছিল এতদিন আমাদের কল্পনার বিষয়। কিন্তু NAS আজ এই বিষয়টাকে কল্পনার পাতা থেকে বাস্তবে নিয়ে এসেছে। আপনাদের সামনে যে যন্ত্রটা দেখতে পারছেন এটা থেকে এক ধরনের রে এমিট করে। এই রে যে বস্তুর উপর পড়ে সেই বস্তুর গঠনে পরিবর্তন আসে ফলে বস্তুটি যেকন ম্যাটার মধ্য দিয়ে ওই ম্যাটার এর কোন গুনগত পরিবর্তন না করেই ভেদ করে চলে যেতে পারে। আর যে ম্যাটার এর উপর এটা প্রয়োগ করা হয় সেটার জড়তার কোন পরিবর্তন করে না। লিভিং কোন প্রানীর উপর এটা প্রয়োগ করলে প্রানীটি মারা যায়। ধরা যাক কিছু পরিমাণ পানির উপর এটা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাহলে সেই পানি যদি কোন শুকনো বস্তুর উপর ফেলা হয় তাহলে সেই শুকন বস্তুটি ভিজবে না, বরং পানিটা শুকনো বস্তুকে ভেদ করে চলে যাবে। আশা করি বিষয়টা সবাই বুঝতে পেরেছেন। এবার আপনাদেরকে সাইবারনেটিক প্রযুক্তির ফসল এই রে এর কার্যকারিতা সামনাসামনি দেখান হবে।"

সবাইকে এক্সপেরিমেন্ট চেম্বার এ নিয়ে যাওয়া হল। গ্লাসের অপরপাশে একটা প্লাটফর্মের উপর বড় আকারের গোলক রাখা আছে। প্লাটফর্মটার চার কোনা থেকে চারটি পোল উঠে গেছে। এবং উপর থেকে রে এমিটিং যন্ত্রটা তাক করে রাখা হয়েছে। অতিথি সবাইকে প্রটেকটিভ গ্লাস দেয়া হল। এরপর যন্ত্রটা চালু করা হল। কিছুক্ষনের মধ্যেই গোলকটা সবার চোখের সামনে টুপ করে মাটির নিচে চলে গেল গেল। এখানে যে কিছু ছিল তা বোঝার উপায় নেই। সবাই কিছুক্ষন অপেক্ষা করল।

অবশেষ এ সেই ইঞ্জিনিয়ারই মুখ খুলল, "আসলে আমাদের গ্র্যাভিটি পোল এ সমস্যা হয়েছে। হলো অবজেক্ট গ্র্যাভিটির কারনে নিচের দিকে চলে যায়। আর নিম্নমূখী বল ক্যান্সেল করার জন্য উচ্চমূখী একটা বল রাখতে হয়। কোন কারনে সেই যন্ত্রটা ম্যালফাংশন করেছে আর তাই গোলকটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দোলকে পরিণত হয়েছে। তবে আপনারা নিশ্চই আমাদের গবেষনার ফলাফল দেখেছেন।" বলে এক্তা প্রানশূন্য হাসি দিল।

অস্ত্রব্যাবসায়ী জিজ্ঞেস করল, "তাহলে কী এই গ্রাভিটি পোল থাকা বাঞ্ছনীয়?"
"জ্বী।"
স্পনসর প্রটিষ্ঠান এর মানুষগুলো একটা চরম বিরক্তি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারের দিকে তাকিয়ে রইল।
1323156289_Hyperactive_1314639932_1-90707.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System