Title: “ইভ টিজিং প্রসঙ্গে কিছু কথা”

সম্প্রতি ইউ ল্যাবের ছাত্রদের দ্বারা ইভ টিজিং এবং ইভ টিজিং এর প্রতিবাদকারীকে মারধোর করার ঘটনাটা নিয়ে প্রায় সব ব্লগ, পত্রিকা ও ফেইসবুকে প্রচুর আলোচনা চলছে। আজ আমি নিজেও এ বিষয়ে দু-চারটা কথা বলতে চাই।

প্রথমেই আপনাদের সামনে প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা পার্থক্য তুলে ধরতে চাই। আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি এ পর্যন্ত আমার প্রতিষ্ঠানে কখনও কোন ইভ টিজিং এর ঘটনা ঘটতে দেখিনি এবং আমার জানা মতে ঘটেও নি। যদি ঘটত তাহলে নিঃসন্দেহে ইভ টিজাররা গন-ধোলাইয়ের শিকার হত। আমারা মেয়েদের সমান অধিকারে বিশ্বাসী এবং তাদেরকে প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে জানি। নিজেদের ভেতরে যত কোন্দলই থাকুক না কেন, অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা সবাই এক। কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এই জিনিসটার বড় অভাব।

নামসর্বস্ব কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গজিয়েছে শহরে। এসব প্রতিষ্ঠানে মেধার মূল্যায়ন হয়না, মূল্যায়ন হয় টাকার। আর এটা খুবই স্বাভাবিক যে যেখানে মেধার চেয়ে টাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, সেখানে তো মূল্যবোধের অভাব হবেই। তাই বলে আমি ঢালাও ভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সব শিক্ষার্থীদের খারাপ বলতে রাজি নই। অবশ্যই অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীরা ভাল ফ্যামিলির ভাল সন্তান। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে Evil persons are too few. খারাপ লোকেরা সংখায় খুব কমই থাকে। কিন্তু হাতে গোনা অল্প কিছু খারাপ লোকেরা ভাল মানুষগুলোর ওপর চড়াও হয়। সংখ্যায় অনেক অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও আমরা ভাল মানুষগুলো বার বার ওদের কাছে হেরে যাই। এর কারন কি? এর কারন হল, ঐ খারাপ লোক গুলোর হাজার দোষের মাঝেও একটা ভাল গুন আছে যা আমদের মাঝে নেই। সেই গুনটা হল “একতা”।

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় মুখস্থ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়, কিন্তু আত্মস্থ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়না। তাই ছোট বেলা থেকে ‘একতাই বল’, ‘দশের লাঠি একের বোঝা’, ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ এই সংক্রান্ত প্রবাদ ও প্রবচন, ভাব-সম্প্রসারণ ইত্যাদি মুখস্থ করে পরিক্ষার খাতায় উগড়ে দিয়ে গাদা গাদা নম্বর পাওয়ার পরও একতা আসলে কি জিনিস আমরা তা বুঝলাম না। আফসোস!

আমার একটা সমস্যা প্রায়ই হয়। যে জিনিসটা নিয়ে লিখতে বসি, লিখতে লিখতে ক্রমশ সেই বিষয় থেকে দূরে সরে যাই। যাইহোক, আবার ফিরে আসি ইভ টিজিং এর কথায়। ইভ টিজিং হওয়ার পর সেই ঘটনা প্রকাশ পেলে আমরা এখানে ওখানে লেখা লেখি, নিজেদের মাঝে বলা বলি, মৌন- মিছিল, মানব বন্ধন করতে শুরু করি (যদিয়ও সামনা সামনি ইভ টিজিং কারীদের কিছু বলার সাহস পাইনা)। কিন্তু ইভ টিজিং হওয়ার আগেই তার প্রতিরোধে কি করা যায় তা নিয়ে কেউ চিন্তা করিনা। ইভ টিজিং কারীদের শাস্তি দেয়ার কথা সবাই বলে, কিন্তু তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কারো মাথা ব্যাথা নেই।

ইদানিং দেখছি হালের আধুনিক সব ফাশনেবল ড্রেস পড়ার একটা ঝোঁক উঠেছে সব জায়গায়। (অন্যরা কি বলবে জানিনা, তবে বেশ কিছু পোশাক আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে) এছাড়াও পাবলিক প্লেস গুলোতে এদের বেলাল্লাপনা দেখে আমি মাঝে মাঝে তাজ্জব বনে যাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এসব একদমই হয়না তা বলব না। তবে এরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে। আমি বলতে চাই আমাদের এ ধরনের আচরন কি ইভ টিজিং নামক বিষয়টিকে কিছুটা হলেও উৎসাহিত করছে না? আমি এই ধরনের আচরণকে খারাপ বলছিনা। স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা। নিজের মত করে চলার অধিকার সবারই আছে। আমি বলছি যে আমরা কি আরও একটু সংযত হয়ে চলতে পারিনা?

এবার অন্য একটা বিষয়ের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রায় সব অলিতে গলিতে কিছু বখে যাওয়া ছেলে থাকে যারা মদ- গাঁজা খায়, ছিনতাই করে আর রাস্তা-ঘাটে মেয়ে দেখলেই টিজ করে। এদের সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই কারন এদেরকে শোধরানো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়গামী কিছু ছেলেরাও ইদানিং ইভ টিজিং শুরু করেছে এবং বখাটে দের দলে ভিড় জমাচ্ছে। যার প্রমান হল ইউ ল্যাবের ছাত্রদের ঘটনাটা। যদিও এরা ইভ টিজিং এর মত জঘন্য একটা কাজ করছে কিন্তু তারপরও একটু খোঁজ নিলে হয়ত দেখা যাবে যে এরা ভদ্র ঘরের শিক্ষিত বাবা মায়ের সন্তান। সন্তানের অধঃপতন সম্পর্কে মোটেও তারা অবগত নয়। প্রত্যেক বাবা মা যদি তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেটি কোথায় যায়, কি করে, কাদের সাথে মিশে এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন তাহলে আশা করি অনেক গুলো ছেলেকেই সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যাবে।

পরিশেষে বলতে চাই, আমার কোনও কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী । আশে পাশের পরিস্থিতি দেখে মনের কষ্টটা একটু কমানোর জন্য ছোট মুখে কিছু বড় কথা বলে ফেলেছি। আশা করি সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।
1337497199_Untitledddd.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System