Title: মোজিনা, কোনো রাষ্ট্রদূতের এই ধরনের সফর বিরল ঘটনা: বিবিসি

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা উত্তরবঙ্গে এক সফরের অংশ হিসেবে আজ চাপাই নবাবগঞ্জ সীমান্তে গিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষীদের সাথে কথা বলেছেন৻

পাঁচদিনের এক সফরের অংশ হিসেবে মোজেনা রোববার রাজশাহীতে এবং সোমবার চাপাইনবাবগঞ্জ যান। সেখানে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর এলাকায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সাথে এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের বিএএফের সদস্যদের সাথেও তিনি কথাবার্তা বলেন।

মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বেশকিছু প্রকল্প পরিদর্শন এবং ঐতিহাসিক এলাকা দেখতেই উত্তরবঙ্গে সফর করছেন। এর সাথে সীমান্ত সমস্যার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

প্রথম দিনে রাজশাহীর পুঠিয়ার রাজবাড়ি পরিদর্শনে গেলে সেখানে সাংবাদিকরা তাকে সীমান্ত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমবারের মতো সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেছেন, এধরনের ঘটনায় ভারতকে দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রতি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একজন গরু ব্যবসায়ীর ওপর বিএসএফ সদস্যদের নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর এই অঞ্চলে শুধু নয় পুরো বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যমে তা আলোড়ন তোলে। ওই ঘটনার প্রসঙ্গে মোজেনা বলেন, সেটি ছিল মর্মান্তিক এবং খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা। এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের বিষয়ে ভারত সরকার দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে স্থলবন্দরের কাজকর্মও দেখেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন দিলু জানান, মোজেনা আজ সকালে সোনা মসজিদ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, বাংলাদেশ প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে, যা এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক। এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ হতে পারে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেখানে বিজিবি ও বিএসএফে কর্মকর্তাদের সাথেও আলাপ করেন। আর বিজিবির ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় কিভাবে কাজ করছে সেই বিষয়টি তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

যৌথ টহল, পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি দেখে মোজেনা দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রশংসা করেছেন বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা। এরপর ১২৩ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের কর্মকর্তারা এসে তাকে বিওপি এলাকায় নিয়ে যান। এসময় বিজিবির কর্মকর্তা এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছিলেন। তিনি তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মোজেনা বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশিযাতে নতুন বাণিজ্যপথ স্থাপনের জন্য চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে সীমান্তে হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রোববারই এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তাই এ বিষয়ে কিছু বলবেন না।

বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রদূতের এভাবে সীমান্ত এলাকা সফর অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে মার্কিন দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান যে, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তার দেখা এটিই প্রথম সফর।

একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মোজেনা যে দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেই দেশ ও তার প্রতিবেশীর মধ্যেকার সীমান্তে গিয়ে দুই পাশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে এই আলাপকে কিভাবে দেখছে সরকার?

এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিজিবি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো বিষয়টিতে মন্তব্য করার দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে তারা অপারগ।

আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের তরফ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সাথেই
1330405496_majiona.thumbnail.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System