Title: বড়পুকুরিয়ায় ‘কয়লা’ গোপনে বিক্রি

রিয়াল, হ্যালো-টুডে ডটকম : দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ গোপনে কয়লা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ২ রা ফেব্রুয়ারী থেকে খনির উৎপাদিত কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয় ইটভাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে দিচ্ছেন না কয়লা। অথচ গোপনে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করছেন কয়লা। এমন অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের।খনির ভূগর্ভের দ্বিতীয় স্তরের উন্নয়ন কাজের জন্য খনি কর্তৃপক্ষ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত ২ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ১মাসের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ ইটভাটা মালিকদের কাছে কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেন। কয়লা বিক্রি বন্ধ রাখলেও কর্তৃপক্ষ নিজেদের পছন্দের বগুড়ার এম.এ কনস্ট্রাকশন নামের এক প্রতিষ্ঠানকে গোপনে দু’দফায় যথাক্রমে ১২০৩ নং ডি.ও-তে ১হাজার ৫০০টন এবং ১২০৪ নং ডি.ও-তে ১হাজার টন কয়লা বিক্রি করেছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বগুড়ার এম.এ কনস্ট্রাকশন নামের ঐ প্রতিষ্ঠান কয়লা ক্রয়ের জন্য গত বুধবার (২২ফেব্রুয়ারি) ১হাজার টন কয়লার বিপরীতে ১কোটি ১০লাখ ১৮হাজার টাকা বড়পুকুরিয়া শাখা সোনালী ব্যাংকে জমার মাধ্যমে খনি থেকে ঐ পারিমাণ কয়লা সরবরাহ করা হয়। খনির একটি চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সিন্ডিকেট করে কয়লা বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। ঐ চক্রটি প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রী জ্বালানী উপদেষ্ঠা, জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, জ্বালানী সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন প্রকার বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ইটভাটা মালিক বলেন, হঠাৎ করে খনি কর্তৃপক্ষ গত ২ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেন। এতে করে বিপাকে পড়েন ইটভাটা মালিকরা। ইটভাটার আগুন সচল রাখতে বেশ কয়েকজন ইটভাটা মালিকরা মৌখিকভাবে প্রতি ইটভাটায় ৫০টন করে কয়লা সরবরাহের অনুরোধ জানানোর পরও কর্তৃপক্ষ মজুদ কয়লা সরবরাহ করা যাবে এমন অজুহাতে কয়লা সরবরাহ করেননি। ফলে ইটভাটা মালিকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় করে সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানীকৃত ভারতীয় কয়লা আনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে ইট উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে যা ইট ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপবে।

অথচ খনি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের কাছে ৫০টন কয়লা সরবরাহ না করলেও গোপনে বগুড়ার এম.এ কন্সট্রাকশনের নামে দু’দফায় ২হাজার ৫০০টন কয়লা সরবরাহ করে কোটি টাকার কয়লা বাণিজ্য করা হয়েছে। যে কয়লাগুলো বগুড়ায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু ইটভাটা মালিকের কাছেই চড়ামূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটন কয়লার নির্ধারিত মূল্য ১১হাজার ১৮টাকা। কিন্তু খনি থেকে সরবরাহ নিয়ে কোল ইয়ার্ড গেটেই বিক্রি করা হচ্ছে টন প্রতি ১৩হাজার ৫০০ থেকে ১৪হাজার টাকা দরে। সংকটের কারণে বেশ কিছু ভাটা মালিকরা বাধ্য হয়ে ঐ চড়াদামেই কয়লা কিনছেন। মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বন্ধের পরও কয়লা বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর নির্দেশে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। যা কিছু হচ্ছে তার সবটাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই হচ্ছে। খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ২ফেব্রুয়ারি থেকে কয়লা সরবরাহ বন্ধ আছে। এরমধ্যে কয়লা বিক্রি হয়ে থাকলে সেটা তার জানা নেই। এটা মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বলতে পারবেন। কোল ইয়ার্ডে কয়লা সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক (মাইনিং) জাফর সাদিক বলেন, কর্তৃপক্ষের সরবরাহ আদেশ (ডি.ও)-এ খনির কোল ইয়ার্ড থেকে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিশেষ বিবেচনায় কিছু কয়লা বিক্রি করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় ইটভাটা মালিকরা বিশেষ বিবেচনায় না পড়ায় তাদেরকে কয়লা না দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় পড়ায় বগুড়ার ঐ প্রতিষ্ঠানটির কাছে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে।
1330401095_20110428-barapukuria-300.thumbnail.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System