Title: আজ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস

পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠির বিমাতাসুলভ আচরণ, অব্যাহত অর্থনৈতিক শোসন, জাতিগত নিপিড়ন ও প্রশাসনিক বঞ্চনা পূর্ব পাকিস্থানের জনগনের মনে তীব্র অসন্তোস সৃষ্টি করে। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্থান ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্থান ভৌগলিক হতে ছিল পরস্পর বিচ্ছিন্ন। ফলে পূর্বপাকিস্থানের জনগনের মনে নিরপত্তহীনতা তীব্রতর হয়। শোষন বঞ্চনা এবং নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে পরিত্রানের আশায় পূর্ব পাকিস্থানের জনগন উদগ্রিব হয়ে ওঠে।

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্থানে বিরোধী দলের এক কনবেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এ কনভেনশনে ৬ ফেব্রুয়ারী আওয়ামীলীগের পক্ষ হতে শেখ মুজিবর রহমান তার ঐতিহাসিক ছয় দফ কর্মসূচী উত্থাপন করেন। কর্মসূচী গুলো হলো :

১ম দফা : লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্থানের জন্য সত্যিকার একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রনয়ন করতে হবে এবং এর সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির।

২য় দফা : যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকব দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অন্যান্য বিষয় থাকবে প্রদেশের হাতে।

৩য় দফা : দেশের দুই অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময় যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে এবং মুদ্রা পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। অথবা একই মুদ্রা থাকবে তবে এক অঞ্চলের মুদ্রা যাতে অন্য অঞ্চলে প্রচার হতে না পারে সে জন্য একটি ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই অঞ্চলে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।

৪র্থ দফা : আঞ্চলিক সরকারের হাতে সকল প্রকার ট্যাক্স, কর ধার্য ও আদয় করার ক্ষমতা থাকবে। তবে কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য নিদৃষ্ট পরিমান অর্থ ফেডারেল বাংকে জমা দেয়া হবে।

৫ম দফা : বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর আঞ্চলিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে আঞ্চলিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় আঞ্চলিক সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।

৬ষ্ঠ দফা : আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারামিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচী বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা। বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং ক্রমবিকাশের ইতিহাসে আওয়ামীলীগের ছয় দফার কর্মসূচীর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৬ ছয় দফার ভিত্তিতে ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান ব্যাপকতা পায়। ৭০ সাল পর্যন্ত ছয় দফার ভিত্তিতেই স্বায়ত্ব শাসনের দবীতে আন্দোলন পরিচালিত হয়। মূলত ছয় দফা আন্দোলন কে কেন্দ্র করেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই বলা যায় আমাদের জাতীয় জীবনে ছয় দফার গুরুত্ব অপরিসীম।

------ কাজী তুষার
1329543264_6 dopa.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System