Title: চাই পড়ার টেবিল

সাজানো গোছানো সুন্দর একটি টেবিল পড়াশোনায় এনে দিতে পারে বাড়তি মনোযোগ। বিভিন্ন ধরনের পড়ার টেবিল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন আপনারটি। পড়ার টেবিলের খোঁজখবর নিয়ে লিখেছেন তৌহিদুল ইসলাম তুষার


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আহম্মেদ সাবি্বর পড়ার টেবিল কিনতে এসেছেন পান্থপথের দোকানে। তিনি জানান, বন্ধুরা মিলে থাকার জন্য বাসা নিয়েছেন, কিন্তু কেনা হয়নি পড়ার টেবিল। চটজলদি পছন্দের টেবিল কিনতে তাই এখানে আসা। অটবিতে বাচ্চার জন্য পড়ার টেবিল কিনতে এসেছিলেন বৃষ্টি ইসলাম। সামনে বাচ্চার নতুন স্কুল, নতুন ক্লাস। পড়াশোনার জন্য টেবিল দরকার। আর বড়দের যেমন পছন্দ আছে তেমনি আছে ছোটদেরও। ও কার্টুন খুব পছন্দ করে। বাচ্চাদের পছন্দসই পরিবেশ দিতে পারলে ভালো। এতে পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ে। এসব চাহিদার জোগান দিতে প্রয়োজন ব্র্যান্ড এবং নন-ব্র্যান্ডের টেবিল।
হাতিল ফার্নিচার : আসবাবের জগতে 'হাতিল' তেমনি একটি নামি ব্র্যান্ড। বাসাবাড়ি ও অফিসের জন্য সব ধরনের আসবাবই তাদের রয়েছে। বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য নতুন কিছু পণ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দিচ্ছে বিশেষ ছাড়। পণ্য বিশেষে এই ছাড়ের অঙ্ক ৫ থেকে ২৫ শতাংশ। হাতিলের আসবাবগুলো কাঠ এবং প্রক্রিয়াজাত কাঠ দিয়ে তৈরি। রঙের ব্যবহার করা হয় ইতালিয়ান লেকার। আর প্রাকৃতিক, এন্টিক এবং ডার্কস তিন ধরনের রঙ করা হয়ে থাকে। ছাড় চলবে মাসজুড়েই। হাতিলের টেবিল পাবেন ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।
পিঁড়ি কথন : দেশীয় উপকরণে তৈরি ব্যতিক্রমী আসবাবের দোকান পিঁড়ি কথন। পিঁড়ি কথনের ডিজাইনার জেনিস মাহমুন বলেন, দেশের বেশিরভাগ আসবাবপত্র ব্রিটিশ মোটিফে তৈরি। এই ধারা পরিবর্তন করে আমরা লোকজ মোটিফে আসবাবপত্র তৈরি করছি। মিরপুরের অপেরার শোরুমে পাবেন পিঁড়ি কথনের আসবাব। পড়ার টেবিল ত্রিকোণাকার শৈল্পিক কাজ করা। দাম পড়বে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ঠিকানা : পিঁড়ি কথন, ১৩০৫ পূর্ব মনিপুরীপাড়া, বেগম রোকেয়া সরণি, মিরপুর।
অটবি ফার্নিচার : অটবির শোরুমগুলোতে স্লিম ফিট ফার্নিচারের আধিক্য একটু বেশিই। রঙের ক্ষেত্রে কালো লেকার থেকে শুরু করে উডেন কালার, ওক কালার এবং জামদানি শাড়ির টেক্সারও উঠে এসেছে কিছু ফার্নিচারে। আপনার পড়ার ঘরের সৌন্দর্যর্ বর্ধনে অটবির পড়ার টেবিলগুলো অতুলনীয়। এগুলোর মূল্যও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। এ ছাড়া একটি চেয়ার ও একটি টেবিলের সেট রয়েছে। এটি যেমন আকর্ষণীয় তেমনি বহন করাও সুবিধাজনক। পড়ার টেবিল ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।
আকতার ফার্নিচার : ঢাকা শহরের ফার্নিচার কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরেকটি উন্নত। এটি ঢাকার পুরনো ফার্নিচার কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। ক্রেতারা যেসব পণ্য ক্রয় করে সেসব পণ্য পরিবহনের জন্য কোম্পানির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করা। আকতার ফার্নিচার তার পণ্যে সাধারণত ২ বছরের ওয়ারেন্টি এবং ১ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। ২ বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে আকতার ফার্নিচার কর্তৃপক্ষ তা বদলে দিতে বাধ্য থাকে। আকতার ফার্নিচারের আসবাবপত্রগুলো সাধারণত অর্জুন, কড়ই এবং গর্জন কাঠ দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। আকতার ফার্নিচার আসবাবপত্র তৈরির কাঠ সাধারণত ইতালি এবং জার্মানি থেকে আমদানি করে থাকে। এসব কাঠ সাধারণত চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয়। ডিজাইন ভেদে দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তা ছাড়া শিশুদের উপযোগী টেবিল তৈরি হচ্ছে। এসব আসবাবপত্রে মিকি মাউস, টম অ্যান্ড জেরি, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, বারবি, পিগলেট, ডিজনি প্রিন্সেসসহ বিভিন্ন ধরনের কার্টুন আঁকানো। এ ছাড়া ফুল, ফল, পশু-পাখি, আকাশে পাখি উড়ে যাওয়ার দৃশ্য, চাঁদতারা, লতাপাতাসহ নানা প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এসব আসবাবপত্রে। চেয়ারের পেছন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন কার্টুনের মুখ বয়ব। স্বভাবত শিশু রূপকথার জগৎ ভালোবাসে। আর এসব আসবাবপত্রের সঙ্গে বেড়ে উঠলে শিশুর সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায় পড়ার টেবিলে। মেলামাইন বোর্ড, উডটেক্স আবার রাবার কাঠ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমেও টেবিল বানাতে পারেন। টেবিলে কার্টুন ছাড়াও আছে কলমদানি, ঘড়ি, সাতবারের নাম, বর্ণমালা, অ্যান্ডলেস পেপার, পারমান্যান্ট পেন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী টেবিল ছোট-বড় করা যায়। তবে সাধারণ উচ্চতা বারো থেকে ত্রিশ ইঞ্চি।
অটবি (কিডস জোন), হাতিল, নাভানা, মেডালিয়ন, তানিন, এলআরবি ফার্নিচারে পাবেন এ ধরনের আসবাবপত্র। পান্থপথের ফার্নিচারের দোকানেও পাওয়া যাবে। এসব দোকান থেকে পছন্দ অনুযায়ীও আসবাবপত্র বানিয়েও নিতে পারবেন। ধানমণ্ডির ফার্নিচারে পাবেন বৈচিত্র্যময় শিশুতোষ আসবাবপত্র।
দরদাম : ব্র্যান্ডের আসবাবপত্রের দাম একটু বেশি। পড়ার টেবিলের দাম ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সাধারণ দোকান থেকে কিনলে দাম পড়বে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডের খাটের দাম ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ দোকানে খাটের দাম ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডের শেলফের দাম পড়বে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা। হোমটাচ রিডিং টেবিল বোর্ডের দাম পড়বে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। অটবিতে রিডিং টেবিল ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। আখতার ফার্নিচারে রিডিং টেবিল পাবেন কয়েকটি মডেলের। দাম ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। নাভানা থেকে রিডিং টেবিল কিনতে পারবেন ৪ থেকে ৬ হাজার টাকার ভেতরে। এ ছাড়া হাতিল, পারটেক্স, লেগেন্সি, হাই ফ্যাশন ও পান্থপথের দোকানগুলোয় পাবেন রিডিং টেবিল।
1327128828_ho.jpeg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System