Title: ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য

ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য


অভিধানে কোনো বস্তুতে আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন ঈমান এবং কারো অনুগত হওয়াকে ইসলাম বলে।

ঈমানের আধার হলো অন্তর, ইসলামের আধার অন্তরসহ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। কিন্তু শরিয়তে ঈমান ব্যতিত ইসলাম এবং ইসলাম ব্যতিত ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা ও তার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিশ্বাসের মৌখিক স্বীকৃতির সাথে সাথে কর্মের দ্বারা আনুগত্য ও তাঁবেদারি প্রকাশ করা না হয়।

মোটকথা, আভিধানিক অর্থে ঈমান ও ইসলাম স্বতন্ত্র অর্থবোধক বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। অর্থগত পার্থক্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোরআন হাদিসে ঈমান ও ইসলামের পার্থক্যের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু শরিয়ত ঈমানবিহীন ইসলাম এবং ইসলামবিহীন ঈমান অনুমোদন করে না।

প্রকাশ্য আনুগত্যের সাথে যদি অন্তরের বিশ্বাস না থাকে তবে কোরআনের ভাষায় একে ‘নেফাক’ বলে। নেফাককে কুফরের চেয়েও বড় অন্যায় সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, মুনাফিকদেও স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর। অনুরূপভাবে আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে যদি মৌখিক স্বীকৃতি এবং আনুগত্য না থাকে, কোরআনের ভাষায় একেও কুফরি বলে।

বলা হয়েছে, কাফেরগণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার নবুওয়তের যথার্থতা সম্পর্কে এমন সুস্পষ্টভাবে জানে, যেমন জানে তাদের নিজ নিজ সন্তানদেরকে।
অন্যত্র এরশাদ হয়েছেÑ

তারা আমার নিদর্শন বা আয়াতসমূহকে অস্বীকার কওে, অথচ তাদের অন্তওে এর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। তাদের এই আচরণ কেবল অন্যায় ও অহংকারপ্রসূত।

ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্র এক, কিন্তু আরম্ভ ও শেষের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ ঈমান যেমন অন্তর থেকে আরম্ভ হয় এবং প্রকাশ্য আমলে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ কওে, তদ্রƒপ ইসলামও প্রকাশ্য আমল থেকে আরম্ভ হয় এবং অন্তরে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ করে। অন্তরের বিশ্বাস প্রকাশ্য আমল পর্যন্ত না পৌঁছালে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। অনুরূপভাবে প্রকাশ্য আনুগত্য ও তাঁবেদারি আন্তরিক বিশ্বাসে না পৌঁছালে গ্রহণযোগ্য হয় না। ইমাম গাজালি ও ইমাম সুবকিও এ মত পোষণ করেছেন।
অন্য আয়াতে খোদাভীরুদের এমন আরো কতিপয় গুণাবলির বর্ণনা রয়েছে, যাতে ঈমান বিল গাইব এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসের প্রসঙ্গটা আরো একটু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জমানায় মুমিন ও খোদাভীরু শ্রেণীর লোক বিদ্যমান ছিলেন, এক শ্রেণী তারা যারা প্রথমে মুশরিক ছিলেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অন্য শ্রেণী হলো যারা প্রথমে আহলে কিতাব ইহুদি নাসারা ছিলেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এখানে পূর্ববর্তী আয়াতে প্রথম শ্রেণীর বর্ণনা ছিল। আর অন্য আয়াতে দ্বিতীয় শ্রেণীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাই এ আয়াতে কোরআনের প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস করার কথাও বলা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এই দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকেরা যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোনো না কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী ছিলেন, তারা দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী ছিলেন। প্রথমত কোরআনের প্রতি ঈমান এবং আমলের জন্য। দ্বিতীয়ত পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার জন্য। তবে পার্থক্য এই যে, সেগুলো সম্পর্কে বিশ্বাসের বিষয় হবে এই যে, কোরআনের পূর্বে আল্লাহ তায়ালা যেসব কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, সেগুলো সত্য ও হক এবং সে যুগে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব ছিল। আর এই যুগে কোরআন অবতীর্ণ হবার পর যেহেতু অন্যান্য আসমানি কিতাবের হুকুম-আহকাম এবং পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহ মনসুখ হয়ে গেছে, তাই এখন আমল একমাত্র কোরআনের আদেশ অনুযায়ীই করতে হবে।

চলবে...
1326695156_Quran-sm20111229180831.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System