Title: সমুদ্রের গভীরে হারানো পৃথিবীর সন্ধান !

সমুদ্রের গভীরে হারানো পৃথিবীর সন্ধান !

world.jpgহ্যালো-টুডে ডটকম : অ্যান্টার্কটিকায় সাগরের আট হাজার ফুট তলদেশে ‘হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী’ আবিষ্কারের দাবি করেছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। সেখানে বেশ কিছু নতুন প্রজাতির জলজ প্রাণীর সন্ধান মিলেছে বলেও দাবি তাদের। অক্সফোর্ড ও সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের একটি দল ‘হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী’ আবিষ্কারের দাবি করেছে। প্লোস বায়োলোজি ম্যাগাজিনে তাদের এই আবিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, সেখানে আগ্নেয় উদগীরণের উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই বেঁচে আছে অনেক নতুন প্রজাতির জীব। সাগরের তলদেশে কাঁকড়া, অক্টোপাস ও তারামাছের নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। সাগরের আট হাজার ফুট তলদেশে গাঢ় অন্ধকারে প্রাণীর অস্তিত্ব টিকে থাকা প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা জানান, সাগরের নিচে আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ওই আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝেমধ্যে কালো ধোঁয়া বের হয়। ওই জায়গায় সাগর তলদেশের ফুটো দিয়ে পৃথিবীর ভিতর থেকে অনবরত উত্তপ্ত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, তাপমাত্রা ৩৮০ সেন্টিগ্রেড। এই তাপমাত্রায় সীসাও গলে যায়। আর ওই পরিবেশে বাস করছে জীব।

এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। সূর্যের আলো সাগরের ওই গভীরে প্রবেশ করে না। নিকষ অন্ধকারের মধ্যেই ওই প্রাণীগুলো বসবাস করে। প্রাণীগুলো পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে বের হওয়া ধোঁয়ার অতি বিষাক্ত রাসায়নিক ভেঙে তাদের খাদ্য তৈরি করে। প্রাণীগুলো অন্ধকারেই বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকার মতো শক্তিও পায় আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া গ্যাস থেকে।

বিজ্ঞানীদের মতে, গ্যাসের মাধ্যমে অনেক রাসায়নিক পদার্থ বের হয়, যা প্রাণীগুলোর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক। আবিষ্কারকরা জানিয়েছেন, তারা অ্যান্টার্কটিকার উপকূলে অভিযান চালানোর সময় ওই ‘হারানো বিশ্ব’ খুঁজে পান। সেখানে নিকষ অন্ধকার আর পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে বের হওয়া ধোঁয়া-কাদার নোংরা উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যে সামুদ্রিক কাঁকড়া, অক্টোপাস ও তারা মাছের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি নিশ্চিন্তে বসবাস করছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, সেখানে প্রায় ২৪ রকমের নতুন ধরনের প্রজাতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘ইয়েতি কাঁকড়া’ নাম দেয়া এক ধরনের কাঁকড়ার আকার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। এই কাঁকড়াটি তার বুকের লোমে জন্মানো ব্যাকটেরিয়া খেয়ে বেঁচে থাকে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। এসব কাঁকড়া দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। সাধারণ কাঁকড়ার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো-এই কাঁকড়ার বুকে একজাতীয় চুল রয়েছে। বিজ্ঞানীরা নতুন এক প্রজাতির অক্টোপাস দেখেছেন বলেও দাবি করেন। তবে ওই অক্টোপাস ধরতে পারেননি তারা। বিজ্ঞানীরা জানান, সেখানে শামুকজাতীয় প্রাণী, তারামাছ ও নলের মতো দেহবিশিষ্ট কর্ষিকাযুক্ত এক ধরনের প্রাণীও দেখা গেছে। এই প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীরা ‘রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল’ ব্যবহার করেন।
বিজ্ঞানী দলের প্রধান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালেক্স রজার্স বলেন, “আমরা এমন কিছু প্রাণীসত্তার সন্ধান পেয়েছি, যা এই গ্রহে আগে কখনোই দেখা যায়নি। মাত্র আট সপ্তাহের ব্যবধানে সাগরের তলদেশ সম্পর্কে আমাদের জানাশোনার অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিত, সেখানে আরও কিছু প্রাণীর সন্ধান মিলবে।”
1326101560_world.thumbnail.jpg
Comments
Write Comment
Leave your valued comment. Sign Up


TS Management System